32.4 C
Rajbari
বুধবার, জুন ২৯, ২০২২
Homeমতামতমুসলিমদের জন্য রোজা কি এবং কেন?

মুসলিমদের জন্য রোজা কি এবং কেন?

ডা: মিজানুর রহমান শুভ্র

পারিবারিক এবং সামাজিক ভাবে অনেকেই আমরা ছোট বেলা থেকে রোজা রাখার বিষয়টি দেখে এবং চর্চা করে অভ্যস্ত। অনেক অভ্যস্ততার বিষয়ে যেমন আমাদের মনে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের উদ্রেক হয় না, তেমনই রোজার ব্যাপারেও হয়তো অনেকেরেই মনে এর উদ্দ্যেশ্য ও কারন নিয়ে প্রশ্ন জন্মায় না। তবে এখানে প্রশ্ন করার সুযোগ আছে, বুঝে চর্চা করার ভিন্ন মাত্রার মাহাত্ম এবং শক্তি আছে। একজন মুসলিমের জন্য রোজা কি এবং কেন এই বিষয়টাকে একটু বিশ্লেষণ করেই এই লিখা লিখছি। অনেকদিন ধরেই লিখার অভ্যাস নেই, লিখার দক্ষতাও খুব ভালো না, প্রকাশ ভঙ্গির কারণেই হউক বা অন্য যে কোন কারণেই হউক সবাই আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন। ভিন্ন মতামত অথবা প্রাসঙ্গিক মতামতকে অবশ্যই আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

প্রথমে খুব সংক্ষেপে মুসলিমের পরিচয়কে একটু রিভিউ করি। আমরা সবাই জানি মুসলিম সেই যে ইসলামকে নিজের জীবন পরিচালনার জন্য ধর্ম হিসাব গ্রহণ করেছে। ইসলামের দুটি অর্থ, (১) সমর্পন, আর (২) শান্তি। আমরা যদিও বা দ্বিতীয় অর্থটাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি, এবং মনে করে থাকি ইসলাম পালন মানেই শান্তির ধর্ম পালন, কিন্তু যে কথাটা খুব একটা মাথায় সক্রিয় থাকে না তা হলো এই “শান্তি” একটা ফলাফল, যা অর্জনের শর্ত হলো ইসলামের শব্দটির অপর অর্থ, অর্থাৎ “আত্মসপর্ন”। কিভাবে সেটা হলো? একটু ভাবলেই দেখবেন, ইসলামী শিক্ষা মতে এটাই বিশ্লেষণ করে উপসংহারে পৌঁছানো যায় যে, যদি আমরা আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত হবার জন্য সামগ্রিক ভাবে তথা, ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এক আল্লাহর নির্দেশিত পথে ও মতাদর্শে আত্মসমর্পন করি তবেই এই “শান্তি” আনয়ন সম্ভব। এমন একটা সামগ্রিক বিষয়ের আলোচনা বেশ তাত্ত্বিক একটা অনুভূতি দেয়, কারণ এ যুগে এর কোন যথার্থ বাস্তব মডেল বা নমুন আমদের মাঝে নেই। এর বাস্তবিক রূপ অবশ্য ইতিহাসে আমাদের নবী, হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সময়ে এবং তার পরবর্তি কিছুদিন পর্জন্ত বিরাজমান ছিল, এবং সেটা কোন অমুসলিম ইতিহাসবিদ ও অস্বীকার করেন না। কিন্তু সে কথা থাক, আমাদের প্রসঙ্গে আসি, উপরের কথা গুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো, একজন মুসলিম সেই, যে নিজেকে আল্লাহর নির্দেশের কাছে আত্মসমর্পন করেছে। তার অর্থ দাঁড়ায়, কোরানে আল্লাহ যে সব নির্দেশ ফরজ এবং ওয়াজিব করে দিয়েছেন সেগুলো নির্দ্বিধায় পালন করাই নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করার শর্ত। তাহলে এবার দেখা যাক, কোরানে রোজা পালনের ব্যপারে আয়াত বা নির্দেশটি কেমন। আয়াতটি অনেকেরই জানা, তবু এখানে দিচ্ছি, “হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের উপর সিয়াম (রোজা) জারী (আবশ্যক) করে দেওয়া হলো, যেমন করে দেওয়া হয়েছিল তোমাদের পুর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো” – সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩।

এই লিখাটি লিখার সময়ে একটা বিষয়ে মাথা আসলো। কোরানে অনেক আয়াত, কিছু লম্বা, আবার অনেক আয়াত ছোট। এটা একটা মধ্যম দৈর্ঘের আয়াত বলা চলে। শুধু কৌতূহল বশত একটু হিসাব নিকাশ শুরু করলাম তার ফলাফল দিচ্ছি। আয়াতটির অবস্থান, সুরা বাকারার ১৮৩ নাম্বারে যা একটি অংক দিয়েই বিভাজ্য, আর সেটা হলো মৌলিক সংখ্যা ৩। আর ৩ দিয়ে ভাগ করার পর দেখলাম যে সংখ্যাটি আসে সেটা হলো ৬১। এর পর আগ্রহ বশত হরফ গুনে দেখলাম, আর নিশ্চিত হবার জন্য একজন আরবী ভাষাভাষী বন্ধুকে দিয়ে গুনালাম, দেখলাম এই আয়াতে হরফের মোট সংখ্যা ও ৬১। যাই হউক এটি আমাদের আলোচনার মুল বিষয় নয়, তবে এগুলো কোরানের অনন্যসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট যা মানুষের দ্বারা রচনার অসম্ভব্যতাকে নিশ্চিত করে। এবার মুল প্রসঙ্গে আসি।

“হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের উপর সিয়াম (রোজা) জারী (আবশ্যক) করে দেওয়া হলো, যেমন করে দেওয়া হয়েছিল তোমাদের পুর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো”

এই আয়াতটি খেয়াল করলে কয়েকটি বিষয় দেখা যায়, যেমন, (১) রোজা রাখার নির্দেশ, (২) এটা আমাদের জন্য নতুন কিছু না, এর আগেও আল্লাহ তায়ালা একই নির্দেশ অন্যান্যদের দিয়েছেন [যেমন যাদেরকে আহলে কিতাব বা কিতাবধারী বলে বলা হয়] (৩) রোজা রাখার নির্দেশের উদ্দ্যেশ্য। প্রথম ও দ্বিতীয় বিষয়টি খুবই স্পষ্ট, এবং ঐ পর্যন্ত বললেই বিশ্বাসীরা সবাই রোজা রাখতো। কিন্তু কেন এভাবে উদ্দ্যেশ্যে সহকারে আয়াতটিতে বলা হয়ে থাকতে পারে? আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, সেটি এরকমঃ আমাদেরকে আল্লাহ বহু স্থানেই দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে মৌলিক বিষয়ে আমরা মুসলিমরা পুর্ববর্তিদের মতোই, তারাও আমাদের মতো একশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন, তারাও নামাজ পড়তেন, এবং তারাও রোজা রাখতেন। সুতরাং, প্রথম কথাই হলো, আমাদেরকে এটাই বোঝানো যে, এই নির্দেশ মানুষের জন্য আল্লাহর একটা মৌলিক নির্দেশ। মৌলিক নির্দেশ বলেই এই নির্দশকে দেখানো হয়েছে একটা সময় অমুখাপেক্ষী নির্দেশ হিসাবে, বিগত আগত সব সময়ের জন্য একটা নির্দেশ। কিন্তু কেন এই নির্দেশ এতটাই মৌলিক নির্দেশ, সেই কথাটাই আয়াতের শেষে গিয়ে উদ্দেশ্য হিসাবে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলে দিলেন – “……… যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো”।

বাংলায় এই তাকওয়ার অর্থ, বা আয়াতের এই অংশের বাংলা অর্থ প্রায়ই দেখা যায় লিখা আছে, “……যেন তোমরা আল্লাহ ভীতি অর্জন করতে পারো” । কথাটা একদম অঠিক ও না, আবার সঠিক অর্থও বহন করে না। কোরানে তাকওয়া শব্দটি বিভিন্ন ভাবে এসেছে যার সারাংশ অর্থ দাঁড়ায় – তাকওয়া অর্জন মানে এমন একটা গুন অর্জন করা যার দ্বারা আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা সহজ হয়ে যায়। রোজা সঠিক ভাবে পালন করলে ঠিক এই গুনটাই অর্জিত হবার কথা, এবং খেয়াল করুন আল্লাহর কথা মতে, এই গুন অর্জন করাই হলো রোজার মুল উদ্দেশ্য। কিন্তু কিভাবে? এবার আরো কিছু বিশ্লেষণ করে দেখি। আবার খেয়াল করুন, আয়াতটি “বিশ্বাসীদেরকে” সম্বোধন করে বলা হয়েছে। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে একজন বিশ্বাসীর জন্য এই নির্দেশ বিশ্বাসেরও উপরের স্তরের একটা কাজ, আর সেটাই হলো ‘তাকওয়া’ অর্জনের পথে নির্দেশনা। বিশ্বাস বিষয়টা মৌখিক ভাবে করেই নিজেকে বিশ্বাসী বলে দাবী করা যায়; আমাদের বর্তমান সমাজে অনেকে করেন ও তাই। কিন্তু আল্লাহ এই বিশ্বাসীদের মধ্যে পার্থক্যকারী একটা কাজ দিয়ে দিলেন, সেটা হলো রোজা, উদ্দ্যেশ্য কি? এমন একটা গুন অর্জন করা যা দিয়ে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু আবার ও সেই একই প্রশ্ন, “কিভাবে?”

মানুষের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট আছে, তার মধ্যে একটি হলো, নিজের খেয়াল খুশি মতো চলা (অনেকটা অন্যনান্য পশুর মতোই) , এবং এর মধ্যে প্রধান খেয়াল খুশী মতো কর্মকান্ড গুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক চাহিদা গুলো প্রধান। রোজার বিষয়টি লক্ষ করলে দেখা যাবে, মানুষের ১১ মাসের অভ্যস্ততার রুটিনের বিপরীতে তাকে এই বিষয়গুলো থেকেই বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (একটা পশুকে কিন্তু আপনি রোজার রাখার অভ্যাস করতে বললে সে পারবে না, মানে তার মধ্যে এই স্বয়ংক্রিয় ভাবে স্বেচ্ছায় জৈবিক চাহিদা পুরন থেকে বিরত থাকার বিষয়টাই নেই। অনেকেই মানুষকে পশুর থেকে উন্নত প্রজাতি মনে করেন, সেটা মানবতার বিষয়, মানবীয় ক্ষমতার বিষয় না) যাই হউক, সাধারণভাবে বলতে গেলে রোজার নির্দেশটা আর কিছুই না, একজন মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে যা যা তার করা হয় না, জাগ্রত অবস্থায় সজ্ঞানে ঠিক সেভাবেই সে সব চাহিদা পূর্ণ থেকে বিরত থাকা। এভাবে চিন্তা করলে মানুষের রোজা রাখা কালীন অবস্থাটা যেন জৈবিক চাহিদার মাপকাঠিতে একটা ধ্যানরত অবস্থার মতোই, অর্থাৎ, সেই চাহিদা গুলোকে অনেকটা নিষ্ক্রিয় করে রাখার ব্যবস্থাপনা হলো রোজা। এই নির্দেশনা মানুষ এক মাস ধরে পালন করে। তার সাথে যুক্ত থাকে, নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অনুমতি, নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ তো আছেই, যথা সম্ভব কম কথা বলা, ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত না হওয়া, মিথ্যা কথা সম্পুর্ন পরিহার করা, ইসলামে সুনির্দিষ্ট সব হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি, ইত্যাদি। একটু ভাবলে দেখবেন, বিষয়টা একদম সমরাস্ত্র প্রশিক্ষণের মতো, তবে পার্থক্য একটাই এখানে ‘কমান্ডার ইন চিফ’ কে দেখা যায় না। না দেখেই নির্দেশ গুলো মেনে চলে একজন রোজা পালনকারী। ইচ্ছা করলেই কিন্তু আড়ালে লুকিয়ে কেউ কিছু খেয়ে ফেলতে পারে, ইচ্ছা করলেই মিথ্যা বলতে পারে, চাইলে সব গুলো নির্দেশ অমান্য করে ফেলতে পারে সবার চোখের আড়ালে। কিন্তু করে না, কি ভেবে করে না? জানে, যিনি হিসাব রাখেন, যিনি সব দেখেন, সেই ‘কমান্ডার ইন চিফ’ চট করে নির্দেশ ভঙ্গের নথিভুক্ত করে ফেলবেন। এই যে অদৃশ্য একজন সর্বময়ের প্রতি সার্বিক আত্মসমপর্নের চর্চা, এর দ্বারাই এক মাস পরে অর্জিত হবার কথা সেই গুণাবলী যা দ্বারা তার জন্য কমান্ডারের অন্যান্য নির্দেশ পালন করা সহজ হয়ে যাবে (অবশ্য সেই সাথে জানতেও হবে সেই অন্যান্য নির্দেশগুলো কি), এবং এ ভাবেই রোজার উদ্দেশ্য তথা তাকওয়া অর্জন পুর্ন হতে পারে। কিন্তু তবু কেন আমরা রোজাদার মানুষদের মধ্যেও এতো প্রকারভেদ দেখি? অথবা রোজা পার হয়ে বাকি ১১ মাসে কেন আমরা আবার সেই যা ছিলাম তাই হয়ে যাই? বিষয়টা ব্যখ্যা করা খুব কঠিন না। এর সাথে জড়িত আছে আমাদের বাকী ১১ মাসের জীবন ব্যবস্থা। খেয়াল করলে দেখবেন, বাকি ১১ মাসে আমরা রোজার মধ্যে যেভাবে চলি তার অনেকটা আর মনে রাখি না, বা সে ভাবে চলি না। এটা রোজার কোন পদ্ধতিগত দোষ না, এটা আমরা কি ভাবে রোজা পালন করি ও রোজা পালন করে তাকওয়া অর্জনের দিকে লক্ষ্য থাকে কি না সেই বিষয়টা জড়িত।

(রোজাদারের প্রকারভেদ) যেমন ধরুন, এক দল আছে, তারা রোজা রাখেই শুকানোর জন্য, এই সুযোগে একটু শুকিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তারা তো রোজার উদ্দ্যেশ্য বিধেয় সব কিছুরই বহির্ভুত। আবার, এক দল আছে যারা রোজা রাখেন কারণ, “আশে পাশে সবাই রাখে, আমি না রাখলে কেমন দেখায়?”, এরা আবার এক আধটু ধূমপান ও করেন রোজার সময়ে। আবার আরেক দল আছেন যারা হয়তো রোজা রাখেন, ‘মুসলমান আবার রোজা না রাখে কেমনে’? কিন্তু এর পর রোজা কালীন সময়ে আর যে সব চর্চা করা দরকার তা থেকে অনেক দূরে থাকেন, হয়তো অভ্যাস বশত মিথ্যা কথা, গীবত, ঝগড়া ঝাটী, গালাগালি, চিৎকার করে কথা বলা ইত্যাদি সবই নিয়ম মাফিক করেই যাচ্ছেন। অনেক ইয়াং জেনেরেশন আছে যারা রোজা রাখে বাপ মায়ের ভয়ে, বাইরে খেয়ে দেয়ে আবার ঠিক ইফতারির টাইমে রোজা ভেঙে ফেলতে সবার সামনে বসে যায়। উপরোক্ত যে সব কারন দেখানো হলো তার মাঝে কোনটি রোজা রাখার কারনে, “যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো” এই অংশটি পুরন করে? স্মরণ করুন, তাকওয়া অর্জনের অর্থই হলো, “এমন একটা গুণাবলী অর্জিত হবে যার দ্বারা আল্লাহর অন্যান্য নির্দেশ পালন সহজ হয়ে যাবে”

এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, বিষয়টা আমার কাছে রোজার আদর্শ বহির্ভূত মনে হয়। বিষয়টা আমাদের অমুসলিম বোন ও ভাইদের বিষয়ে। একটা বিষয়ে খেয়াল রাখবেন, আমাদের দেশে মুসলিমদের সাথে অমুসলিমরাও থাকেন, তাদের জন্য রোজার নির্দেশ আল্লাহ দেন নাই, সঙ্গত ও না। যারা বাইরে কর্মরত থাকেন, তাদের খাওয়া দাওয়া এ সময়ে যথেষ্ট ব্যঘাত ঘটে। আমার মতে এটা একটা অব্যবস্থপনা, এবং অন্যায়। মুসলিমরা রোজা রাখবেন, যারা রাখবেন না, তারা রাখবেন না, সামাজিক ব্যবস্থায় তাদের জোড় করে রোজা রাখার কোন নির্দেশ ও নাই। এ সবের বিচার আল্লাহই করবেন। সুতরাং, খাবারের হোটেল বন্ধ, অমুক দোকান বন্ধ রেখে রোজার পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে, এগুলো মুসলিম রোজদার হিসাবে আমাদের ঈমানের দুর্বলতার প্রমাণ, অমুসলিমদের উপর অত্যাচার ছাড়া কিছু না। কেউ যদি একটা হাদিস দেখাতে পারেন যেখানে আল্লাহর রাসুল কোন অমুসলিমের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন, তাহলে আমি আমার কথা তুলে নিব।

যদি কোন দোকানদার সিদ্ধান্ত নেন তিনি বন্ধ রাখবেন তাকেও যেমন খুলতে জোর করা উচিত হবে না, তেমনি কেউ দোকান খুলে রাখলে তাকেও বন্ধ করতে বলা উচিত হবে না। এখানে জোরাজুরি করলে রোজা রাখার উদ্দ্যেশেই বরং নষ্ট হয়ে যায়, কারণ রোজা শিক্ষা দেয় সহনশীলতার। মুসলিম হিসাবে সব সময় একটা কথা মনে রাখবেন, হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়ে ইসলাম এমন একটা ধর্ম ছিল যখন মুসলিমদের চরিত্র দেখে অমুসলিমরা ইসলাম গ্রহণ করে ফেলতো। আর এখন তো দেখতেই পারছেন পৃথিবীর অবস্থা, সাথে আমরা আরেকটু যোগ করে দেই আর কি। যদি রাসুলের (সাঃ) যুগের সেই ইসলাম অর্জন না করতে পারি, তো বুঝবেন, আমাদের ইসলাম পালনে যথেষ্ট ঝামেলা আছে। এখানে, আমি সংক্ষেপে চেষ্টা করলাম রোজা আসলে কি এবং কেন এটার একটা বর্ননা দিতে। আয়াতের গাণিতিক বিষয়টা প্রণিধানযোগ্য তবে মুল বিষয় নয়। শেষে এসে অমুসলিম ভাই বোনদের বিষয়ে বলেছি, সেটা ইসলামী সহনশীলতার আদর্শ থেকেই বলেছি।

আশা করি আমারা সবাই রোজার উদ্দ্যেশ্য পুরনের জন্যই রোজা রাখবো। আল্লাহ তায়ালাতার রাসুলের (সাঃ) মাধ্যমে বলেছেন, আর সমস্ত নির্দেশ পালনের পুরুষ্কার তিনি দিবেন ফেরেশতাদের হাত দিয়ে, শুধু রোজার পুরুষ্কার দিবেন নিজ হাতে। এর মর্জাদা অনেক উপরে। আসুন আমরা চেষ্টা করি রোজার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোজার মাসটাকে এর যথাযথ মর্জাদা দিয়ে আল্লাহর কাছে নিজেদের মর্জাদার অবস্থান আরো উপরে নিয়ে যেতে। সকলেই যেন সুস্থ ভাবে বুঝে শুনে রোজা রেখে বাকি ১১ মাসের জন্য উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারি সেই কামনায় আজকে লিখা শেষ করছি।

আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

#শুভ্র

Toronto, Canada

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments