30.8 C
Rajbari
সোমবার, জুন ২৭, ২০২২
Homeরাজবাড়ীদৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ঈদ যাত্রায় দূর্ভোগের আশঙ্কা

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ঈদ যাত্রায় দূর্ভোগের আশঙ্কা

শামীম শেখঃ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া।  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ বছর জুড়ে নানা  দূর্ভোগ সহ্য করে এ নৌরুট দিয়ে চলাচল করে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে সেই দূর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে,  নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে চলতি রমজান মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিদিন নদী পারের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে আসছে। নদী পারের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই দূর্ভোগ আসন্ন ঈদে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা।
সূত্র মতে, নদী পারাপার হতে আসা যানবাহনের তুলনায় নৌরুটে ফেরি সংকট, নদীতে নাব্যতা সংকট ও ঘাট সংকটে মূলত যানবাহন পারাপার ব্যহত হচ্ছে। পদ্মা নদী পাড়ি দিতে ফেরির নাগাল পেতে মহাসড়কে প্রতিদিনই পন্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী যানবাহনের ঘন্টার পর ঘন্টা দীর্ঘ সারিতে আটকে থাকতে হচ্ছে। আর এ সুযোগে দালাল চক্র অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। দৌলতদিয়া ঘাট হতে আসন্ন ঈদে দক্ষিনাঞ্চলগামী যাত্রী পরিবহন নিয়ে দালাল চক্রটি নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি সুত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটের ফেরি বহরে মোট ১৯ টি ফেরি রয়েছে।
 যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২টি ফেরি পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতে রয়েছে ।
এছাড়া  নারায়নগঞ্জ ডর্কইয়ার্ডে মেরামতে রয়েছে রোরো ফেরি  ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা, শাহ্ আলী ও শাপলা-শালুক। গত ১৭ এপ্রিল রোরো ফেরি শাহ পরান সেখান থেকে মেরামত শেষে বহরে এসে যুক্ত হয়েছে। ঈদের আগে আরো অন্তত ২ টি মেরামত কাজ শেষে বহরে এসে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোডের জন্য মোট ৭টি ফেরিঘাট পন্টুন রয়েছে। এরমধ্যে ১নং ঘাট ও ২ নং ঘাট দীর্ঘ ২ বছর ধরে ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া ৬নং ফেরি ঘাটটিও কিছুদিন যাবত বিকল হয়ে বন্ধ রয়েছে। সচল থাকা ৩ নং ঘাট ও ৪নং ঘাটেরও সব গুলো পকেটে ফেরি ভেরার উপযোগীতা নেই। তাই একটি করে পকেটে ফেরি লোড-আনলোড করা হয়। অপরদিকে ৫ নং ঘাট ও ৭নং ফেরি ঘাট সম্পূর্ন সচল থাকলেও নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া পন্টুন সড়ক থেকে অনেক নিচু হয়ে গেছে। এতে করে যানবাহনগুলোকে ফেরি থেকে নেমে অত্যন্ত খাড়া ঢালু টপকে সড়কে উঠতে হয়। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী সময় লাগে।
অপরদিকে, বর্তমান শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় নৌরুটে তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ খনন যন্ত্র দিয়ে ফেরি চলাচলের জন্য খনন কাজ করছে। খনন কাজে ব্যবহৃত পাইপসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের জন্যও কিছুটা ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি গুলোকে ধীর গতিতে অত্যন্ত সাবধানতার সাথে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারীজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সিরিয়াল রয়েছে। আর গোয়ালন্দ মোড় থেকে রাজবাড়ী অভিমুখে রয়েছে ২ শতাধিক ট্রাকের সারি। এদিকে রমজানের মধ্যেও দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রাকের চালক ও সহকারীরা। সময়মত মালামাল পরিবহন করতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ৩৪টি লঞ্চে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার যাত্রী পারাপার হয়। বর্তমানের তুলনায় ঈদে যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। গত বর্ষা মৌসুমে লঞ্চ ঘাটের পন্টুনে ওঠা-নামার জন্য দু’টি কাঠের ওয়েব্রীজ নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘ আট মাস অতিবাহিত হলেও ওয়েব্রীজ দু’টি সংস্কার করে সচল করা হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ ক্ষতিগ্রস্থ ওয়েব্রীজের নিচ দিয়ে জিও ব্যাগ ফেলে সরু পথ তৈরী করে আপাতত যাত্রীদের লঞ্চ ঘাটে উঠা-নামার ব্যবস্থা করেছে। যেহেতু ঈদের সময় যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে যায়, সেহেতু ওই সরু পথ দিয়ে যাত্রী উঠা ও নামায় চরম বিরম্বনার শিকার হতে হবে। আর ওই সময় যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে পিচ্ছিল হয়ে লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদে যাওয়া আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিউটিএ) আরিচা অঞ্চলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটটি গত বছর তীব্র স্রোতে ভেঙ্গে যায়।জরুরি কিছু কাজ করে আপাতত যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করেছি। বর্ষাকাল আসলে এখানে ঘাট রাখতে পারি কিনা সন্দিহান। দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়নের বড় প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। ওই প্রকল্প থেকে স্থায়ীভাবে এখানে যা করার করে দিব। কোন কারণে যদি দেখা যায় এখানে ঘাট রাখা যাচ্ছে না, তবে যে কোন একটি ফেরিঘাটকে লঞ্চঘাট হিসাবে ব্যবহার করে যাত্রী পারাপার করা হবে।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) শিহাব উদ্দিন জানান, আগামী ঈদে যানবাহন পারাপারে গতি আনতে দৌলতদিয়া ২নং ফেরিঘাটটি সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান সরেজমিন ঘাট পরিদর্শন করে এই নির্দেশনা দিয়েছেন। এর বাইরে এখানে ৪ টি ফেরি ঘাটের ১০ টি পকেট চালু রয়েছে।
এছাড়া মেরামতে থাকা  ফেরিগুলো হতে আরো অন্তত ২ টি ফেরি  ঈদের আগেই রুটের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করছি। সেক্ষেত্রে ফেরির সংখ্যা বেড়ে হবে ২১ টি।
তিনি আরো বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করে ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোড দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে পারলে প্রতিটি ফেরির ট্রিপ সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং কম সময়ে আরো অনেক বেশী যানবাহন পারাপার করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments