32.4 C
Rajbari
বুধবার, জুন ২৯, ২০২২
Homeজাতীয়অর্থাভাবে আটকে আছে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ কাজ-গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ  ও গণহত্যা দিবস...

অর্থাভাবে আটকে আছে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ কাজ-গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ  ও গণহত্যা দিবস পালিত

শামীম শেখ
 ২১ এপ্রিল গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ  ও গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর দিকে হানাদার বাহিনী পদ্মা পারের গোয়ালন্দ মহকুমার গুরুত্বপূর্ণ গোয়ালন্দ ঘাট দখলে নিতে আসলে এই দিন ইপিআর, আনসার ও ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পড়ে। প্রতিরোধ যুদ্ধে শহীদ হন আনসার কমান্ডার ফকির মহিউদ্দিন, ছবেদ আলী, হাবিল মন্ডল ,কবি তোফাজ্জল হোসেন  সহ আরো কয়েকজন।
 পাক হানাদার বাহিনী ওই দিন গোয়ালন্দে প্রবেশ করে  নিরস্ত্র মানুষের ওপর ব্যাপক গণহত্যা চালায় ও আগুন দিয়ে গোয়ালন্দ বাজার ও কয়েকটি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়।এই যুদ্ধের ভেতর দিয়েই পাকিস্তানী বাহিনী রাজবাড়ী ও ফরিদপুর শহরে প্রবেশ করে।
 দিবসটি উপলক্ষে প্রতিরোধ যুদ্ধের স্হান গোয়ালন্দ উপজেলার বাহাদুর গ্রামে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় এক আলোচনা সভা ও মিলাদের  আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা পরিষদের  সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আবদুল জব্বার, গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম মন্ডল, গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক  ফকির আবদুল কাদের, পৌর কাউন্সিলর নাসির উদ্দীন রনি,  ব্যাবসায়ী  আবদুল জলিল মোল্লা সহ সম্মুখ যুদ্ধে অংশে নেওয়া অনেক যোদ্ধা।
জানা যায়,১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল কাকডাকা ভোরে আরিচাঘাট থেকে একটি গানবোট, একটি কে-টাইপ ফেরি, কয়েকটি স্পীড বোট ও কয়েকটি হেলিকপ্টার যোগে  হানাদার বাহিনী তৎকালীন গোয়ালন্দ মহাকুমার উজানচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে নামার চেষ্টা করে। ১৯৭১সালের ২১ শে এপ্রিল সেদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। তারমধ্যেই পাকিস্তানের সুসজ্জিত বাহিনী  নদীপথে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গোয়ালন্দঘাট দখল নিতে আসে।তখন মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ, ইপিআর, আনসার, ইপিআর কমান্ডার এসডিও শাহফরিদ,  মুক্তিবাহিনী তৎকালীন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি  ফকীর আব্দুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক মরহুম কেরামত আলি প্রমানিক এর নেতৃত্বে পাকবাহিনীদের  প্রতিহত করার চেষ্টা করে। পাকিস্তানের সুসজ্জিত অস্রের সামনে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয় । সন্মুখ যুদ্ধ চলা অবস্থাতেই প্রথম শহীদ হন ফকীর মহিউদ্দিন, ছবেদ, হাবিল,কবি তোফাজ্জল  সহ আরো কয়েকজন, সেদিন বাহাদুরপুর ও গোয়ালন্দ বাজার পাকিস্তানিরা আগুনে জ্বালিয়ে দেয়, ছাই হয়ে যায় বাহাদুুরপুর ও গোয়ালন্দ বাজার।
নিরীহ গ্রামবাসীর ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেখানে হানাদারের বুলেটে শহীদ হন বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের স্বাধীনতাকামী জিন্দার আলী মৃধা, নায়েব আলী বেপারি, মতিয়ার বেগম, জয়নদ্দিন ফকির, কদর আলী মোল্লা, হামেদ আলী শেখ, কানাই শেখ, ফুলবুরু বেগম, মোলায়েম সরদার, বুরুজান বিবি, কবি তোফাজ্জল হোসেন, আমজাদ হোসেন, মাধব বৈরাগী, আহাম্মদ আলী মণ্ডল, খোদেজা বেগম, করিম মোল্লা, আমোদ আলী শেখ, কুরান শেখ, মোকসেদ আলী শেখ, নিশিকান্ত রায়, মাছেম শেখ, ধলাবুরু বেগম, আলেয়া খাতুন, বাহেজ পাগলাসহ নাম না জানা আরও অনেকে। সেই থেকে এই দিনটিকে গোয়ালন্দ প্রতিরোধ দিবস হিসেবে বিবেচনা করে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ।
এ প্রসঙ্গে সেই সময়ের প্রতিরোধ যোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল জব্বার বলেন, ২১ শে এপ্রিল ছিল বুধবার। ভোরে পাক হানাদার বাহিনী গোয়ালন্দ আক্রমণ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর যে গণহত্যা চালিয়েছিল তা ভাবলে এখনো গা শিউরে ওঠে। আমাদের হালকা অস্ত্রের প্রতিরোধ আধা ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়নি। সেই যুদ্ধে আমার চাচা আনসার কমান্ডার ফকির মহিউদ্দিন শহীদসহ কয়েকজন শহীদ হন। মূলত ওই দিনই আমাদের সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়েছিল।
এদিকে ২১ এপ্রিল প্রতিরোধ যুদ্ধস্থলকে স্মরণীয় করে রাখতে দীর্ঘকাল পর স্হানীয় ইউসুফ আলী মাষ্টারের দেয়া  জমিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । জেলা পরিষদ হতে ২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে প্রাথমিক ভিত্তিপ্রস্তরের কাজ করা হয়েছে। পুরো কাজ শেষ করতে আরো অন্তত ২২/২৪ লক্ষ টাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কিন্তু অর্থের যোগান মিলছে না।
স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের তরুন উদ্যোক্তা ইন্জিনিয়ার জুয়েল বাহাদুর বলেন, এটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে নতুন প্রজন্ম ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিলের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবে। সেই সঙ্গে পাক বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা ও নির্মমতার বিষয় অনুধাবন করতে পারবে। আমরা পাকিস্তানের নির্মমতা সম্পর্কে সবাইকে জানাতে পারবো।
RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments