29.9 C
Rajbari
শনিবার, জুন ২৫, ২০২২
Homeরাজবাড়ীগোয়ালন্দে মুজিববর্ষের অর্ধ-নির্মিত ঘর ভাঙার অভিযোগ বিএনপি নেতা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে

গোয়ালন্দে মুজিববর্ষের অর্ধ-নির্মিত ঘর ভাঙার অভিযোগ বিএনপি নেতা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য নির্মানাধীন ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও কলেজ শিক্ষক নজির হোসেন ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কৃষ্ণপট্রি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় সেকেন মোল্লার ছেলে সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক বিএনপি নেতা নজির হোসেন মোল্লা, তার বড় ভাই গোয়ালন্দ বাজারের চাউল ব্যবসায়ী মো. ফজল মোল্লা, বোন বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন এবং বোন জামাই উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন মন্ডল।
ভুক্তভোগী ব্যাক্তি হলেন  কৃষ্ণপট্রি গ্রামের মৃত সাত্তার শেখের ছেলে হতদরিদ্র আকরাম শেখ।
 তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে আমার বাবা ছাত্তার শেখ কৃষ্ণপট্রি এলাকায় অনেক কষ্ট করে ৭ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন।আমাদের নামে জমির নামজারিও করা রয়েছে ।কিন্তু  ঘর তোলার সামর্থ না থাকায় আমরা সেখানে ঘর তুলতে পারিনি।
স্ত্রী, মা ও তিন সন্তান নিয়ে শ্রমিকের কাজ করে অন্যের বাড়িতে বাস করছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন থেকে তার নামে সরকারি পাকা ঘর বরাদ্দ হয়। ঘরের জন্য ওই জমি হতে আমি সরকারী নিয়ম অনুযায়ী  ২ শতাংশ জমি সরকারের নামে লিখে দেই। ওই জায়গার ওপর প্রায় তিন ফুট উঁচু করে চারপাশের পাকা ডোয়া নির্মাণ শেষ হলে গত মঙ্গলবার (৭ জুন) সন্ধ্যার দিকে নজির মোল্লার বড় ভাই ফজল মোল্লা, তার স্কুল শিক্ষিকা বোন রাশেদা খাতুন লোকজন নিয়ে রাজ মিস্ত্রীদের মারধর করে সবাইকে তাড়িয়ে দেন। এ সময় তারা ঘরের চারপাশের পাকা ডোয়া ভেঙে গুড়িয়ে দেন। আমাকে মারার জন্য খুঁজতে থাকলে ভয়ে দূরে পালিয়ে ছিলাম। ইউএনও আজিজুল হক খান মামুন ও ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা গোয়ালন্দ রেলগেট এলাকার রাজমিস্ত্রী নুরু সরদার বলেন, আমার ভাই বিল্লাল সরদার সহ ৫জন লোক সেখানে কাজ করছিল। নজির প্রফেসারের পরিবারের লোকজন সবাইকে তাড়িয়ে দিয়ে ভাঙচুর চালায়। বারণ করলে না শুনে উল্টো তিন ফুট ৩ ইঞ্চি উচুঁ করে নির্মিত চারপাশের পাকা ডোয়া ভেঙ্গে মাটিতে মিশিয়ে দেয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন,নজির প্রফেসরের পরিবার ওই জমি নিয়ে মামলা আছে এমন অজুহাত তুলে ঘরের পাকা ডোয়া ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এখন নতুন করে নজির প্রফেসরের পরিবার জমি বুঝ করে দিচ্ছেন। সেখানেই আকরাম শেখ এর ঘরের কাজ হবে বলে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক নজির হোসেন মোল্লা বলেন, এটা মুজিব বর্ষের ঘর আমার বড় ভাই বা বোন কেউ বুঝতে পারেনি। ওই ঘর ভাঙচুরের সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। যে জমিতে ঘর তৈরী হচ্ছিল সেটা আমাদের নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে।তারপরও যেহেতু ভুল করে ফেলেছে এজন্য ওই জমির মাথায় থেকে আমরা তাদেরকে দুই শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি  আজিজুল হক খান বলেন, শিক্ষক নজির হোসেন মোল্লাসহ তার বোন জামাই, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলন মন্ডলকে ডেকে এনে বুধবারের মধ্যে ঘর পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে নির্দেশনা প্রদান করেছিলাম। কিন্তু তারা সেটা না করায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments