29.9 C
Rajbari
শনিবার, জুন ২৫, ২০২২
Homeজাতীয়ঢাকা বিভাগআশুলিয়ার সেই বিরিয়ানি হাউজে ছিলোনা কুকুরের মাংশ-মিথ্যা অপপ্রচারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী

আশুলিয়ার সেই বিরিয়ানি হাউজে ছিলোনা কুকুরের মাংশ-মিথ্যা অপপ্রচারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী

বিশেষ প্রতিনিধিঃ অবশেষে ২৬ দিন পর জানা গেল সেই ”আল্লাহুর দান বিরিয়ানি হাউজ ৫” এ বিরিয়ানিতে যে মাংস ছিলো আসলে সেটা কুকুরের ছিল না, সেটি কোন তৃণভোজী প্রাণীর।কুকুরের মাংসের বিরিয়ানির অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল অনৈতিক সুবিধা নিতে অপচেষ্টা চালিয়েছিল। পড়ে ঘটনাস্থল থেকে ”আল্লাহুর দান বিরিয়ানি হাউজ ৫ ”এর মালিককে আটকসহ সেই মাংসের নমুনা ল্যাবটেস্টের জন্য পাঠিয়েছিল আশুলিয়া থানা পুলিশ।

রবিবার (১২ জুন) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার এসআই সুব্রত রায়। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা এটি পরীক্ষানীরিক্ষা করে রিপোর্ট দিয়েছেন যে মাংসটি কুকুরের নয়। তবে তাহলে কিসের মাংস এমন প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, মুলত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা নুমনা দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম এটি কুকুরের মাংস কিনা ! সে অনুযায়ী রিপোর্ট দিয়েছে।

রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মলিক্যুলার টেস্ট বা আণবিক পরীক্ষার ফলাফল বলছে এটি কুকুরের মাংস নয়। কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার এর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ গোলাম আজম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডঃ গোলাম আজম চৌধুরী বলেন, আমরা মাংসের নমুনা পিসিআর টেস্ট ও মলিক্যুলার টেস্ট করে দেখেছি সেটি কুকুরের মাংস না। তবে কিসের মাংস, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নমুনা দিয়ে আসলে এটি কুকুরের মাংস কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাই আমরা লিখিত ভাবে শুধু সেই অংশই উল্লেখ করেছি। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে সেটি বোভাইন বা তৃণভোজী প্রাণী যেমন গরু ,ছাগল, মহিষ কিংবা ভেড়ার মাংস। এই চারটি প্রাণীর মধ্যে যেকোন একটি প্রাণীর মাংস এটি।

সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, ল্যাবটেস্টের রিপোর্ট আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে আমরা যেই স্যাম্পল পাঠিয়েছি তা কুকুরের মাংস নয়। এর আগে আশুলিয়া থানা পুলিশ মাংস টেস্টের জন্য আমাদের কাছে দিয়েছিল। আমাদের এখানে ল্যাব না থাকায় আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম সেই স্যাম্পল।

এর আগে গত ১৫ মে সাভার আশুলিয়ার নরসিংহপুর স্টানে আল্লাহর দান বিরিয়ানি হাউস-৫ নামক একটি হোটেল থেকে এক নারী তার ছেলের জন্য পার্সেল করে বিরিয়ানি নিয়ে গেলে সেই বিরিয়ানি দেখে সন্দেহ হয়,পড়ে মহিলার বাসার পাশে থাকা এক ডাক্তারকে বিষয়টি জানায়। সেই ডাক্তার তার চেনা কয়েক জন সাংবাদিকদের খবর দিয়ে বিরিয়ানির দোকানে নিয়ে এটা কুকুরের মাংস আক্ষায়িত দেয়।

দেশ ব্যাপি ভাইরাল হওয়া কুকুরের বিরিয়ানি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, একটি বেসরকারি টেলিভিশন, একটি প্রিন্ট পত্রিকা ও একটি অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক হোটেলের ভিতরে ঢুকে বিরিয়ানি কুকুরের মাংস আছে বলে তারা প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু দোকানি দিতে রাজি না হলে পরে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাতেও যখন দোকানি রাজি না হয় তখন তারা উৎসুক জনতাকে কুকুরের বিরিয়ানি বলে লেলিয়ে দিয়ে দোকান ভাংচুর সহ রাজনৈতিক কিছু স্থানিয় নেতা দিয়ে দোকান মালিক ও তার কর্মচারীদের মারধর করেন। পড়ে হোটেলে থাকা কর্মচারী সাংবাদিকদের উল্টো ভিডিও করতে চাইলে কর্মচারীকেও মারধর করে এক সাংবাদিক।

দোকান মালিক সজল বলেন,ঘটনার পর থেকে আমাদের দোকানটা বন্ধ। এবং নরসিংহপুরের দোকানের প্রভাব অন্য দোকান গুলোতেও পড়েছে। আমরা একে বারে শেষ হয়ে গেছি।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিবেন কিনা যানতে চাইলে সজল বলেন, আমাদেরতো শক্তি নাই, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার, তাদের অনেক ক্ষমতা। তবে আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম, যাঁরা আমাদের এত বড়ো ক্ষতি করছে ? আল্লাহ তাদের ক্ষতি করবে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম। তারা একজনও শান্তিতে থাকতে পাড়বে না।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments