31.3 C
Rajbari
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৪
Homeঅপরাধস্কুল ছাত্রীর হত্যার ঘটনা রাজবাড়ীর ২ যুবকসহ আটক ৪

স্কুল ছাত্রীর হত্যার ঘটনা রাজবাড়ীর ২ যুবকসহ আটক ৪

বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকা জেলার সাভারে বিভিন্ন গার্মেন্টসে অজ্ঞাত নিহত তরুণীর ছবি প্রকাশের মাধ্যমে স্কুল ছাত্রী হত্যার রহস্য উদঘাটন করে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আটককৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রায় দেড় মাস পর নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হলো পুলিশ।

রবিবার (১৪ আগস্ট) রাত ১০ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হক।

এর আগে বিকেলে আদালতে তোলা হলে আসামিরা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

নিহত স্কুল ছাত্রী সুমনা আক্তার রাইসা বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার সুমন হাওলাদারের মেয়ে। তিনি সাভারের আইচানোদ্দা এলাকায় পিতামাতার সাথে ভাড়া থেকে স্থানীয় লিটল স্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণীতে লেখা পড়া করতো।

উক্ত হত্যা মামলায় আটককৃতরা হলেন- রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ থানার বাচ্চু মিয়ার ছেলে আশিক ( ২২), তিনি সাভারের সবুজবাগ এলাকার লুৎফর মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া, রাজবাড়ী জেলার ইমরান হোসেনের ছেলে রাকিব (২০), মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে সাকিব (২০), সিরাজগঞ্জের আবুল কাশেমের ছেলে মিজানুর রহমান (২০)। তারা সবাই সাভারের সবুজবাগ এলাকায় ভাড়া থেকে সাভার স্ট্যান্ড এলাকার হকার ছিলেন।

হত্যার কারনঃ

সুমনা আক্তার রাইসা আক্তারের সাথে হকার আশিকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই থেকে তিন মাস প্রেমের সম্পর্কে ফাটল ধরে তাদের। পরে আশিকের বন্ধু সাকিব তাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর জন্য রাইসার ফোন নম্বর নিয়ে কথা বলে। সাকিবের সাথে কথা বলতে বলতে সাকিবের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রাইসা। একাধিক প্রেমে জড়িয়ে পড়লে আসামিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই রাইসাকে হত্যা করে তারা।

স্বীকারোক্তি:

এঘটনায় আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একসঙ্গে দুইজনের সাথে প্রেমের কারনে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা সিদ্ধান্ত নেয় রাইসাকে শিক্ষা দেবে। পরে রাইসাকে গত ২৭ জুন সাভার শিমুলতলা এলাকায় ডেকে নেয়। সেখান থেকে এসেট স্কুলের সামনে নিয়ে চড়-থাপড় দেয় তারা। একপর্যায়ে আশিক তার পকেটে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে রাইসার পেটসহ বিভিন্ন স্থানে ১৪ টা আঘাত করে। এর পর তারাই হাসপাতালে রাইসার মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়। পরে ২৮ জুন নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তার নাম পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়।

রহস্য উদঘাটন:

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল হক নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে সাভারের প্রায় সব পোশাক কারখানায় নিহতের ছবি প্রকাশ করেন। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর গত শনিবার নিহতের বাবা তার মেয়ের ছবি কারখানায় দেখতে পেয়ে থানায় আসেন। পরে নিহতের বাবা আশিকের সাথে প্রেমের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আশিক তাদের বাড়িতেও গিয়েছিল। পরে আশিকের খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি সাভার স্ট্যান্ডে হকারের ব্যবসা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে বিকেলে মিজান ও আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে ভোর রাতে বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতে পাঠানো হয়।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হক বলেন, মেয়ে নিখোঁজের পর নিহতের বাবা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ ডায়েরির সাথে ছবি না থাকায় রাইসাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় নি। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোন মামলা না হওয়ায় আসামিরা আবার এসে হকারের ব্যবসা শুরু করেন। এর আগে তারা গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পরে ছবি দেখে নিহতের বাবা থানায় আসলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আজ বিকেলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম, সাইফুল ইসলাম ও রাকিব হাসানের আদালতে তোলা হলে তারা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। দেড় মাস ঢাকা মেডিকেলে হিমায়িত করা ছিলো নিহত রাইসার লাশ আজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ২৭ জুন নিহতের মরদেহ সাভারের একটি হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা। পরে ২৮ জুন নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত না হওয়া, স্বজনের খোঁজ না মেলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় দেড় মাস মর্গেই পড়ে ছিল লাশ।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments