28.8 C
Rajbari
রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২
Homeরাজবাড়ীগোয়ালন্দে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মান শ্রমিকের মৃত্যু।। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির অভিযোগ

গোয়ালন্দে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মান শ্রমিকের মৃত্যু।। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির অভিযোগ

গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী)প্রতিনিধি 
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পৌরসভার ড্রেন নির্মাণের কাজ করার সময় বিদ্যুৎষ্পৃষ্টে রেজাউল মন্ডল (৩৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যুতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে শ্রমিক ও স্বজনদের মধ্যে।
নিহত শ্রমিক গোয়ালন্দ পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ান পাড়ার মৃত লোকমান মন্ডলের ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সরেজমিন আলাপকালে মতিউর রহমান, রাজু শেখ সহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, গোয়ালন্দ বাজার বড় মসজিদের কাছে স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম বাবলুর বাড়ির সামনে খননকৃত ড্রেনের উপর তারা লোহার রডের জাল বিছানোর কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেজাউল মন্ডল পাশের ঘরের আর্থিং রড ধরে নালার ওপর উঠতে গেলে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন।
তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, আমাদের কাজ করার সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে কোন হ্যান্ডগ্লোভস, মাথায় হেলমেট সহ কোন নিরাপত্তা সরঞ্জমাদি দেওয়া হয়নি। হাতে হ্যান্ডগ্লোভস থাকলে আজকে রেজাউলের হয়তো এভাবে অকালে মরতে হতো না।
উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ওয়াজউদ্দিন খান বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে তাদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় সরঞ্জমাদি দিতে হবে। না হলে রেজাউলের মতো অকালে অনেক শ্রমিক মারা যাবেন। আজ নিরাপত্তা সরঞ্জমাদি থাকলে হয়তো এভাবে তার মৃত্যু হতো না।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সালাউদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন , শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা সরঞ্জমাদি দেওয়া হয়েছে। অথচ তারা কেউ এসব সামগ্রী ব্যবহার করেন না। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে রাগারাগি করি। যখন কোন কর্মকর্তা পরিদর্শনে আসেন শুধুমাত্র তখনই তারা ওই সব সামগ্রী ব্যবহার করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, পরিবার থেকে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যায়ে ৬ ফুট প্রশস্ত এবং ৭ ফুট গভীরতায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘের ৭টি আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
 বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেকেআর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে স্থানীয়ভাবে পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর, ঠিকাদার ও স্হানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাব-ঠিকাদারির ভিত্তিতে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। কাজটির গুনগত মান নিয়েও অনেক অভিযোগ রয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments