20 C
Rajbari
সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২
Homeস্বাস্থ্যশব্দদূষণে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

শব্দদূষণে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

ডেস্ক রিপোর্টঃ

সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি শব্দদূষণের ফলে রাজধানী ঢাকা এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ দূষণের প্রধান উত্স বিভিন্ন যানবাহনের শব্দ ও হাইড্রলিক হর্ন। যা শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তিসহ বসবাসযোগ্য নগরী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। অতিসত্বর এসব যানবাহনের শব্দদূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং শব্দদূষণ সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘শব্দসন্ত্রাস বাসযোগ্য নগরী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ: শব্দসন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ (পবা) সমমনা ১২টি সংগঠন যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘মাইকের শব্দ, ভবন নির্মাণের সামগ্রী, ইট গুঁড়া করার যন্ত্র, পণ্যের বিজ্ঞাপন, জেনারেটর, সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনার, নববর্ষের অনুষ্ঠানে শব্দদূষণের মুখ্য কারণ না হলেও অতি উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী সাউন্ড সিস্টেম এবং আতশবাজির শব্দ সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শব্দদূষণের কারণে বধিরতা, হূদরোগ, মেজাজ খিটখিটে, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটছে, ঘুম না হওয়াসহ নানা রকম অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। তাই সব উচ্চ শব্দের উত্স নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্হা করতে হবে।’

চিকিত্সা বিজ্ঞানীদের মতে, যদি টানা ৮ ঘণ্টা ৯০ থেকে ১০০ ডেসিবেল শব্দ প্রতিদিন শোনা হয়, তা হলে ২৫ বছরের মধ্যে শতকরা ৫০ জনের বধির হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শব্দদূষণ চোখ ও মাথার বিভিন্ন সমস্যার জন্যও দায়ী। শহরের বেশির ভাগ মানুষই মাথার যন্ত্রণায় ভোগে, যার অন্যতম কারণ শব্দদূষণ। এছাড়া ক্রমাগত শব্দ দূষণের ফলে মানুষ হূদরোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক এমনকি লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঢাকা শহরে যেভাবে শব্দদূষণ বেড়ে চলেছে, তাতে এ শহরের অর্ধেক মানুষের শ্রবণক্ষমতা ৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমে যাবে। এজন্য নিজের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে শব্দ দূষণ।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দাবি জানিয়ে বলেন— ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা জরুরি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হবে। মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণহীন গতিবেগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াসহ উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী জেনারেটর, হর্ন, যন্ত্রপাতি আমদানি ও ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বেতার, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণকে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণকাজের জন্য ইট বা পাথর ভাঙার মেশিন ব্যবহার না করা। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের সভা সমাবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহূত সাউন্ড সিস্টেম যেন শব্দের মাত্রা অতিক্রম না করে সে ব্যবস্থা করা।’

মানববন্ধনে আরেও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিমউদ্দীন, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, দেবীদাস ঘাট সমাজ কল্যাণ সংসদের সভাপতি মো. মুসা, বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মৃত্তিকার সমন্বয়ক খাদিজা খানম, জাতীয় সচেতন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির, পরিষ্কার ঢাকার সমন্বয়ক মো. শাহজাহান, ওল্ড ঢাকা কমিউনিটির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের সদস্য শাহিন ইসলাম প্রমুখ।

(দৈনিক ইত্তেফাক থেকে নেয়া)

 

 

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments